বৃহস্পতিবার, ০২ Jul ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
জুলাই স্মরণে জামায়াতের ৩৬ দিনের কর্মসূচি অনলাইন বেটিংয়ে ৭ বছর জেল, ৫ কোটি টাকা জরিমানা হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা নিষেধ, গণমাধ্যমকে আদালতের নির্দেশনা মানতে হবে : তথ্য উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

সরকারের চাপেই জোট ছাড়ছে শরিকরা : মির্জা ফখরুল

দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকা বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। বিশেষ করে ধর্মভিত্তিক দলগুলো বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ছেড়ে চলে যাচ্ছে। প্রথমত দীর্ঘদিন ধরে জোটের বৈঠক না হওয়া তথা নিষ্ক্রিয় থাকা, দ্বিতীয়ত সরকারের চাপ, তৃতীয়ত তাত্ক্ষণিক রাজনৈতিক সুবিধা, প্রলোভনসহ বেশ কয়েকটি কারণে এসব দল বিএনপি জোট ছেড়ে যাচ্ছে। আরো একটি বিশেষ কারণ হচ্ছে বিএনপি এখন ২০ দলীয় জোট টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে ততটা আগ্রহী নয়। সব কিছু মিলিয়ে হতাশ এই জোটে থাকা শরিকরা।

সর্বশেষ গত ১ অক্টোবর ২০ দলীয় জোট ছেড়ে চলে যায় খেলাফত মজলিস। এর আগে গত ১৪ জুলাই বিএনপি জোট ছাড়ে কওমি আলেমদের পুরনো দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। খেলাফত মজলিস ২০ দলীয় জোটে থাকা সর্বশেষ নিবন্ধিত ধর্মভিত্তিক দল ছিল। এর বাইরে যে কয়টি ধর্মভিত্তিক দল জোটে আছে, সেগুলো মূলত এর আগে বেরিয়ে যাওয়া দলগুলোর খণ্ডিত অংশ। জামায়াতে ইসলামী (হাইকোর্টের আদেশে নিবন্ধন বাতিল), ইসলামী ঐক্যজোট (আবদুর রকিব) ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (মনসুরুল হাসান) আরেকটি অংশ ২০ দলীয় জোটে থাকলেও তাদের নিবন্ধন নেই।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারের চাপেই জোট ছাড়ছে শরিকরা। আমরা মনে করি, সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে অনৈক্য সৃষ্টির চেষ্টা চলছে, এটা তারই অংশ।’

খেলাফত মজলিস গত শুক্রবার জোট ছেড়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন ও ২০ দলীয় জোট অকার্যকর বলে জানিয়েছে। এ ব্যাপারে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘২০ দলীয় জোটে তাদের মতোই আমরাও (বিএনপি) একটি পার্টি। এখানে সবারই কাজ করার অধিকার রয়েছে। তারা কেন কাজ করেনি। নিষ্ক্রিয়তা জোট ছাড়ার কারণ হতে পারে না।’

বর্তমানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন এই জোটে নিবন্ধিত দল রয়েছে পাঁচটি। এগুলো হচ্ছে বিএনপি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা (একাংশ), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি, কল্যাণ পার্টি ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)। অন্য দলগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি), লেবার পার্টি, ইসলামী পার্টি, ন্যাপ ভাসানী, পিপলস পার্টি, ডেমোক্রেটিক লীগ, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), সাম্যবাদী দল ও এলডিপির (একাংশ) নিবন্ধন নেই।

১৯৯৯ সালের ৬ জানুয়ারি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম এবং ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হককে সঙ্গে নিয়ে চারদলীয় জোট গঠন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। জোট থেকে বেরিয়ে এরশাদ ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অংশীদার হন। ২০০৯ সাল থেকেই তিনি এবং তাঁর দল ক্ষমতার ভাগীদার। এরপর ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল বিএনপির নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ১৮ দলীয় জোট। পর্যায়ক্রমে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) ও সাম্যবাদী দল যোগ দিলে তা পরিণত হয় ২০ দলীয় জোটে। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় দল, পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশ ও মাইনোরিটি জনতা পার্টির যোগদানের মধ্য দিয়ে জোটের শরিক সংখ্যা বেড়ে ২৩ হয়। অবশ্য পরে পিপলস পার্টি বিলুপ্ত, বিজেপির জোট ত্যাগ ও একটি দলের অস্তিত্ব না থাকায় জোটের শরিক ফের ২০ দলে দাঁড়ায়। সব মিলিয়ে বিএনপিতে নিবন্ধিত দল ছিল আটটি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিজেপি (পার্থ), খেলাফত মজলিস ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বের হয়ে যাওয়ায় নিবন্ধিত দল রয়েছে পাঁচটি।

এদিকে জোটের আরেক শরিক কল্যাণ পার্টিও ২০ দল ছেড়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএনপিকে। ২০১৯ সালের জুনের শেষে অলি আহমদের নেতৃত্বে ২০ দলের কয়েকটি শরিক দল মিলে গঠন করা হয় ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ নামে একটি মোর্চা। এই মোর্চায় কল্যাণ পার্টিও আছে।

গত এক যুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকলেও ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর জোট নিয়ে অনাগ্রহী হয়ে ওঠে বিএনপি। নির্বাচনের আগে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে তাতে বেশি মনোযোগী হয় দলটি। সেটিও এখন অকার্যকর। আর ২০১৯ সালের ৫ জুলাই সর্বশেষ ২০ দলীয় জোটের ভার্চুয়াল বৈঠক হয়।

জানতে চাইলে এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘খেলাফত মজলিস যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা তাদের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে নিয়েছে। এখানে আমাদের কিছু বলার নেই। জোরজবরদস্তির বিষয় নেই।’

খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মোহাম্মাদ ইসহাক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাজনৈতিক জোট ইস্যুকেন্দ্রিক গঠিত হয়। জোট কোনো স্থায়ী বিষয় নয়। ২০ দলীয় জোটে দীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ ছিলাম। ২০১৯ সাল থেকে ২০ দলীয় জোটের দৃশ্যমান রাজনৈতিক তৎপরতা ও কর্মসূচি নেই। রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে সক্রিয় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে ময়দানে ভূমিকা রাখতে জোটের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করেছি।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com